1. [email protected] : bbcpresss :
  2. [email protected] : Jahirul Siraj : Jahirul Siraj
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

অনলাইনে অ্যাড দেখে আয় করা কি বৈধ?

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
  • সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১

বিবিসি প্রেসঃ প্রশ্ন: আজকাল বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যাড দেখানো হয়। অ্যাড যিনি দেখবেন, প্রথমে তার সেই ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা করতে হয়। টাকা জমা করার পর অ্যাড আসা শুরু হয়।

অ্যাড দেখার মাধ্যমে গ্রাহক পাঁচ হাজার খরচ করে দশ হাজার পর্যন্ত আয় করতে পারে। এখন এভাবে উপার্জিত এই অতিরিক্ত টাকাগুলো কি সুদ হবে?

উত্তর: ওয়েবসাইটে অ্যাড দেখাকে উপার্জনের মাধ্যম বানানো নিম্নোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে নাজায়েজ ও অবৈধ। সমস্যাগুলো হলো :

১. ওয়েবসাইটে রাখা অ্যাডগুলো এমন লোকেরা দেখে যারা এসব পণ্য ক্রয় করতে আগ্রহী নয়; কেবল উপার্জনের জন্য তারা বিজ্ঞাপনগুলো দেখে। কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো বিক্রেতাকে ‘বিজ্ঞাপনদর্শকদের’ এই বিরাট সংখ্যা গ্রাহক হিসেবে দেখিয়ে থাকে, বাস্তবে যারা কোনোভাবেই খরিদদার বা ক্রেতা নয়। বিক্রেতা বা পণ্যের মালিককে এভাবে গ্রাহকের ভুয়া সংখ্যা দেখানো একরকম ধোকা বা প্রতারণা; যা শরিয়তে বৈধ নয়।

২. প্রাণীর ছবি, সেটা যেমনই হোক, দেখা জায়েজ নয়। সুতরাং প্রাণীর ছবি দেখার ওপর যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা হবে তা অবৈধ।

৩. এসকল বিজ্ঞাপনে অনেক সময় গায়রে মাহরাম নারীর ছবি থাকে যা দেখা স্বতন্ত্র কবিরা গুনাহ। (গায়রে মাহরাম পুরুষের ক্ষেত্রেও একই কথা)

৪. এছাড়াও এই লেনদেনে যেভাবে উক্ত ওয়েবসাইটের পাবলিসিটি করা হয় তা বৈধ নয়। অর্থাৎ প্রথমে অ্যাকাউন্ট খোলা ব্যক্তির রেফারেন্সে যারা অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তাদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম অ্যাকাউন্টধারী ব্যক্তি কমিশন লাভ করে থাকেন; অথচ নতুন গ্রাহকের করা অ্যাকাউন্টের পেছনে তার কোনো শ্রম নেই।

এভাবে বিনা শ্রমে কমিশন লাভের চুক্তি করা এবং পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েজ নয়। শরিয়তে বিনা শ্রমে অর্থোপার্জনের পদ্ধতিকে অনুৎসাহিত করা হয়েছে এবং শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। নিজ হাতে কামাই করাকে শরিয়ত উত্তম আখ্যা দিয়েছে।

হাদিস শরিফে এসেছে, সাইদ বিন উমাইর আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত , রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হলো, কোন উপার্জন সর্বোত্তম? রাসুল (সা.) বললেন, ব্যক্তির নিজ হাতে উপার্জন করা এবং প্রত্যেক হালাল ও সৎ ব্যবসা। (শুআবুল ইমান, ২/৪৩৪)

সুতরাং হালাল উপার্জনের এমন কোনো পন্থা অবলম্বন করা জরুরি যাতে নিজের শ্রম ব্যয়িত হয়। এমন উপার্জন অধিক বরকতপূর্ণ হয়ে থাকে।

নোট – ১: দ্বিতীয় সমস্যাটির সঙ্গে কারো দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু এছাড়াও আরও তিনটি কারণ এই উত্তরেই উল্লেখ আছে। সুতরাং এটাকে জায়েজ বলার সুযোগ তৈরি হয় না।

নোট – ২: অনেক ওয়েবসাইটে প্রথম অ্যাকাউন্ট খোলা ও অ্যাড পাওয়াটা ফ্রিতে হয় না; টাকা যুক্ত করলে অ্যাড পাওয়া যায় নতুবা না। যেমনটা প্রশ্নে উল্লেখ আছে। এই উত্তরে যদিও এই দিকটি উঠে আসে নি, কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়াতে বিষয়টির হুকুম লেখা হয়েছে। সেখানে তারা এভাবে উপার্জন করাকে অবৈধ বলেছেন এবং উপর্যুক্ত চারটি সমস্যা ছাড়াও আরও দুটি সমস্যার কথা লিখেছেন। যথা :

১. অ্যাড দেখার জন্য দশ হাজার বা ততোর্ধ্ব (মূলত যেকোনো সংখ্যার অর্থের শর্তারোপ) মৌলিকভাবে ইজারা চুক্তির পরিপন্থী।

২. যদি কোনো মাসে অ্যাডে ক্লিক করা না হয় বা কম করা হয় তাহলে অ্যাকাউন্ট করার সময় প্রদত্ত টাকা থেকে হ্রাস পেতে থাকে; যা শরিয়া মোতাবেক কিমার বা জুয়ার একটি ধরণ। জুয়া শরিয়তে অবৈধ, হারাম।

মুফতি নুরুজ্জামান নাহিদ

সূত্রঃ যুগান্তর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এইরকম আরো খবর
September 2021
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© ২০২১ | বিবিসি প্রেস © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | bbcpress.com
Theme Customized BY LatestNews