Secand news

৯/১১: বিমান ভূপাতিত করবে সেই ভবনটির কাছে এলেই রাডার

bbc press | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১১:১০ অপরাহ্ণ

বিবিসি প্রেসঃ ১৯ বছর আগের এই দিনে আমেরিকানদের জীবনে নেমে এসেছিল ঘোর অন্ধকার। ১৯ জন তালেবান জঙ্গির হামলায় নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ। চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে তালেবানরা। এর ভেতর তিনটি বিমান দিয়ে তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে হামলা চালায়। বাকি বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। সব মিলিয়ে এই হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ। ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ঘটনার দিনে সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান ফ্লাইট-১১ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ বুঝতে পারেননি যে এটা হামলা ছিল নাকি দুর্ঘটনা। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে আবারো ইউনাইটেড ফ্লাইট-১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। তখন আর কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এটা হামলা। তখন বেশকিছু গণমাধ্যম এই হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করে। দুটি বিমানেই জ্বালানি ভর্তি থাকায় সেগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং ভবন দুটিতেও আগুন ধরে যায়। এ সময় ভবনে থাকা অনেক মানুষ লাফিয়ে পড়েন। অন্তত ২০০ জন ভবন দুটি থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমেরিকান ফ্লাইট-৭৭ পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত এ জায়গাটিতে হামলার পর স্তব্ধ হয়ে পড়ে সবাই। পেন্টাগন হামলার পাঁচ মিনিট পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সব বিমানকে কাছাকাছি এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে বলে। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে সাউথ টাওয়ার ধ্বসে পড়ে। ভবনটি ধসে পড়ায় আশপাশে ছাই এবং ধুলায় ছেয়ে যায়। এ কারণে এলাকাটি থেকে ভয়ে পালানো মানুষদের চেনা যাচ্ছিল না। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে হাইজ্যাক হওয়া ইউনাইটেড ফ্লাইট-৯৩ পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এটি দিয়েও নাকি হামলা হওয়ার কথা ছিল তবে যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ায় একপর্যায়ে এটি বিধ্বস্ত হয়।
সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে নর্থ টাওয়ার ধসে পড়ে। মাত্র ১২ সেকেন্ডে ধ্বসে পড়ে ভবনটি। হামলার পর পরই এলাকাটিতে ৩৪৩ জন দমকল কর্মী ও প্যারামেডিকস পৌঁছে যায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা। নাইন-ইলেভেন হামলার পর ২০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসে এক ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখানেই তা শেষ হবে না। সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পতনের আগে এ লড়াই শেষ হবে না।’ এরই অংশ হিসেবে ২০০১ সালের শেষদিকে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানে যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসে দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান ও কথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদাকে নির্মূলে এবং ৯/১১ হামলার কথিত নকশাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার এই যুদ্ধে সহযোগী হিসেবে অংশ নেয় ইউরোপীয় সামরিক জোট ন্যাটো। এতে সে সময় মার্কিনিরাও ব্যাপকভাবে সমর্থন জোগায়। এই ভয়াবহ ন্যাক্কারজনক হামলার পর আবারও নিজ অবস্থানে ফেরার চেষ্টা করেছে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’। এবার একটি ভবনই সেখানে দাঁড়িয়েছে ফের আকাশ ছুঁয়ে দিতে। বিশাল বাজেট হাতে নিয়ে এর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৬ সালের ২৭ এপ্রিল। প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয় এই ভবনটি নির্মাণে। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দায় কাজ অনেকটাই থমকে গিয়েছিল, তবে নির্দিষ্ট সময়েই এর নির্মাণ শেষ হয়। ফ্রিডম টাওয়ারের গর্ব বুকে রেখেই এটি নির্মিত হয়েছে। এই টাওয়ারটি আমেরিকার সর্বোচ্চ উঁচু ভবন। প্রায় ৫টি বেইজমেন্টসহ এর ফ্লোর সংখ্যা ১০৪টি। পুরোটা মেঝে থাকছে ৩৫ লাখ ১২শ ৭৪ বর্গফুটের। শুধু উঁচুই নয়, বিশালাকার এই ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির অফিস হিসেবে। উল্লেখ্য, যে কোনো বিমান এর দিকে ছুটে এলেই শক্তিশালী রাডারের নিখুঁত গণনায় সেটিকে ভূপাতিত করার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা এতে রাখা হয়েছে। আফগানিস্তানের পর ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসবাদের

Share This With :
Translate »